বিশেষ করে শহরের ডে-নাইট কলেজের সামনে, বড়বাজার, ও দীঘির মোড় এলাকায় যানজটের পরিস্থিতি বেশি নাজুক। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কের একাংশ দখল করে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। রাস্তার ওপর দীর্ঘক্ষণ যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্য যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং সাধারণ পথচারীরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন নির্মিত সড়কের দুই পাশের জায়গাও দখল করে রাতারাতি গড়ে উঠছে এসব স্ট্যান্ড। এতে সড়কের প্রকৃত প্রশস্ততা থাকলেও যান চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে দুটি কলেজ ও বড়বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যানজট লেগে থাকার অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হলেই যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। স্থানীয় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু ইজিবাইক ও ভ্যানের স্ট্যান্ড নয়, দীঘির মোড়ে আশাশুনিগামী বাসের অনিয়ন্ত্রিত অবস্থানও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যস্ততম এই সড়কে বাসগুলোকে কয়েক মিনিট অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হলেও বাস্তবে যাত্রী পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তার ওপরই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে সড়কের বড় একটি অংশ আটকে থাকে। বাসের পেছনে ও সামনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ কারণে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের প্রবেশপথের সামনেও ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথ আটকে রাখা এবং হাসপাতালের সামনে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জরুরি রোগী নিয়ে আসা যানবাহন চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অদক্ষ চালকদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারিচালিত যান চালানো এবং যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।ভুক্তভোগীদের মতে, যানজটের কারণে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহরের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডও। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না চাকরিজীবীরা। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটছে। নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের ক্ষেত্রে যানজটে আটকে থাকা মানে দৈনিক আয়ের একটি বড় অংশ হারানোর শঙ্কা।শহরের যানজট নিরসনে শুধু মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী সমাধান আসবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ, সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, আশাশুনিগামী বাসের জন্য নির্ধারিত যাত্রী ওঠানামার স্থান তৈরি এবং প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।একই সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের প্রবেশপথ যানজটমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা।সাতক্ষীরাবাসীর প্রশ্ন, জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কি এভাবেই অবৈধ স্ট্যান্ড ও যানবাহনের দখলে থাকবে? নাকি জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসন, পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নেবে? পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকতা আসাদুজ্জামান বলেন, অবৈধ ইজিবাইক এবং ব্যাটারি ভ্যানের স্টান্ডের বিষয়ে অবগত না বলে জানান এবং অবৈধ যানবাহনের চলাচল থামাতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :