মোল্লাহাটে ৭ বছরের শিশুর গ*লা কা*টা লা*শ উ/দ্ধা/র, আটক ৩


News Desk (S) প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ন / ০
মোল্লাহাটে ৭ বছরের শিশুর গ*লা কা*টা লা*শ উ/দ্ধা/র, আটক ৩
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর মুসলিমা (৭) নামে এক শিশুর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কচুড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি সুপারি বাগান থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত মুসলিমা ওই এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে বের হয় মুসলিমা। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে একই এলাকার মোসলেম শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখের পানের বরজের উত্তর পাশে একটি সুপারি বাগানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের বাবা ইসলাম শেখের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর শেখ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জাহাঙ্গীর শেখের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়ির একটি ঘর পুড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫), তার ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমান শেখ (১৯)কে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।