গাছ থেকে পড়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মান্নু, স্বাবলম্বী হতে চান একটি অটোভ্যান
News Desk (S)
প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ন /
০
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
একসময় বড় বড় গাছ কাটার কাজে দক্ষ কাঠুরিয়া ছিলেন মোঃ মান্নু মৃধা। শারীরিক শক্তিও ছিল প্রবল। বড় গাছের ভারী গুঁড়ি অনায়াসে সরিয়ে ফেলতে পারতেন তিনি। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় বদলে যায় তার জীবন। গাছ কাটতে উঠে দুর্ঘটনাবশত গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
মোঃ মান্নু মৃধা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের উরফি চরপাড়া গ্রামের মৃত রুঙ্গু মৃধার ছেলে। বর্তমানে স্ত্রী ও ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
মান্নু মৃধা জানান, তার নিজের বসতবাড়ির চার শতাংশ জমি ছাড়া আর কোনো জায়গা-জমি নেই। তিনি বলেন, ‘আরও জমি থাকলে তা বিক্রি করে একটি অটোভ্যান কেনার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমার নিজের কোনো জমি নেই।’
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মান্নু মৃধার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসার পর জীবন রক্ষা পেলেও আগের মতো কাজ করার সক্ষমতা ফিরে পাননি তিনি। ফলে সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য বর্তমানে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য নিতে হচ্ছে তাকে।
মান্নু মৃধার চার মেয়ে রয়েছে। তাদের ইতোমধ্যে বিয়ে হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ স্বামীর সংসারে বসবাস করছেন। অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সী ছেলের পড়ালেখার খরচ, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা এবং নিজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা বাজারের সাপ্তাহিক হাট বসে। এদিন হাটে বিভিন্ন দোকান ও মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায় মান্নু মৃধাকে।
এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখন আর নেই। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে সাহায্য চাইছি। আমার শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা হয়। জীবনধারণ করা এখন খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সরকারি দপ্তর, প্রতিষ্ঠান বা সহৃদয় ব্যক্তি যদি আমাকে একটি অটোভ্যান বা অটোরিকশার ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে সেটি চালিয়ে উপার্জন করে পরিবারের ভরণপোষণ, নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসা এবং ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারব। মানুষের কাছে আর হাত পাততে চাই না। অসুস্থ হলেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’
মান্নু মৃধার দাবি, নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মান্নু মৃধা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, একটি অটোভ্যান পেলে শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজে পরিশ্রম করে উপার্জন করতে পারবেন। সেই আয়ে পরিবারের ভরণপোষণ, চিকিৎসা এবং ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :