
দুদকের অভিযান এখন সময়ের দাবি
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি হাতিয়ে নেওয়া, একই স্থানে টানা ১২ বছর পদায়ন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে রূপকথার গল্পের মতো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ (পাউবো)-এর তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী শফিকুল ইসলাম ওরফে খোকন। শ্যামনগরের এক নিম্নবিত্ত পরিবারের এই সন্তানের হাতে পাউবোতে যোগদানের পর যেন উঠেছে অলৌকিক আলাদিনের চেরাগ। জিম্মি বাণিজ্য, কমিশন শিকার এবং বেনামে ঠিকাদারি করে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, পাউবোর দুর্নীতিকে নির্বিঘ্ন ও সুগম করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ডিভিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঊর্ধ্বতন হিসাব সহকারী পদ এবং হিসাব করণিক এর আরও ২টি পদ বছরের পর বছর খালি রাখা হয়েছে। আর এই সুযোগে একক আধিপত্য বিস্তার করে তিনটি পদের দায়িত্ব নিজের কবজায় রেখেছেন শফিকুল।গত ১২ বছরে সাতক্ষীরা পাউবোতে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিল প্রদানে তিনি ঠিকাদারদের বেকায়দায় ফেলে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের কমিশন। স্থানীয় এক ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হিসাব শাখার শফিকুল কেরানীকে ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল বা বিল খুলনা সিএও (RAC) অফিসে যায় না।বহিরাগত ও স্থানীয় ঠিকাদারদের বিভিন্ন কায়দায় জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জাতীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।শ্যামনগরের বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়,শফিকুল ইসলাম ও তার শ্বশুর বাড়ির নামে শ্যামনগরের হরিণগরে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া নিজ ও নিকটাত্মীয়ের নামে কিনেছেন প্রায় ১০০ বিঘা আয়তনের বিশালাকার মাছের ঘের। বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার শাশুড়ী নামে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও সরকারি কোয়ার্টারে এয়ারকন্ডিশন (এসি) ব্যবহার এবং প্রতি তিন মাস অন্তর নতুন মডেলের মোটরসাইকেল পরিবর্তন করার মতো প্রকাশ্য বিলাসী জীবনযাপন করছেন তিনি।যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হিসাব করণিক শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা কয়েকটি বিষয়ে আংশিক সত্যতা স্বীকার করলেও অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেন। আইনগত ব্যবস্থা বা সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমার আত্মীয় সাংবাদিক আছে, আমার কিছুই করতে পারবেন না।এ বিষয়ে সাতক্ষীরার নাগরিক নেতা আবুল হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,নিষিদ্ধ সংগঠনের আমলের দাপট দেখিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি বাগিয়ে নেওয়া দুর্নীতিবাজরা এখনো কীভাবে সাতক্ষীরায় বহাল তবিয়তে থাকে? তারা জোকের মতো জেলার রক্ত চুষে খাচ্ছে।তিনি অনতিবিলম্বে শফিকুল ইসলামের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি জরুরি অভিযান দাবি করেন।
আপনার মতামত লিখুন :