
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : খাবারের নামে বিষ খাইয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সোনারগাঁ রেস্তোরা এন্ড সুইটস। ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরা খোলস পাল্টে প্রতিষ্ঠানটি এখন যেন পরিণত হয়েছে পচা মাংসের কারখানা । রাতের আঁধারে রোগাক্রান্ত ও মরণাপন্ন ছাগল কিনে জবাই করে ফ্রিজ ভর্তি করে রাখা এবং সেই পচা-দুর্গন্ধযুক্ত মাংস ক্রেতাদের পাতে তুলে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে এই বিতর্কিত সোনারগাঁ রেস্তোরার বিরুদ্ধে।সর্বশেষ আজ ১১ জুলাই, বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিন জন ক্রেতা। রেস্তোরাটিতে গিয়ে তারা বিকালের খাবারের খোঁজ নেন এবং একপর্যায়ে ‘খাসির লটপটি’ অর্ডার করেন। কিন্তু খাবার মুখে দেওয়া মাত্রই আসে চরম ধাক্কা। খাসির মাংসের পরিবর্তে তাদের মুখে লাগে পৌরসভার ডাস্টবিনের মতো তীব্র পচা ও ভ্যাপসা গন্ধ।তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি রেস্তোরা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে, তারা চরম উদাসীনতা দেখান এবং ক্রেতাদের অভিযোগ পুরোপুরি এড়িয়ে যান। ভুক্তভোগীদের দাবি, রেস্তোরাটি সুকৌশলে কম দামে রোগাক্রান্ত মেয়ে ছাগল (বকরি) কিনে রাতের অন্ধকারে জবাই করে এবং সেই বিষাক্ত মাংস দিনের পর দিন ফ্রিজে জমিয়ে রেখে সাধারণ মানুষকে খাওয়াচ্ছে।সোনারগাঁ রেস্তোরার এই নোংরা কারবার আজকের নতুন নয়। ডিসি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও এই রেস্তোরায় একাধিকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল। সেইসব অভিযানেও ফ্রিজ থেকে বিপুল পরিমাণ পচা, বাসি এবং অস্বাস্থ্যকর মাংস জব্দ করা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই চপেটাঘাতের পরও স্বভাব বদলায়নি এই অসাধু চক্রের। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সোনারগাঁ রেস্তোরা এন্ড সুইটসের ম্যানেজার বলেন ভাই আপনি দয়া করে নিউজটা করেন না। আপনি ভাইয়ের সাথে একটু কথা বলেন। সাতক্ষীরা ভোক্তাঅধিকার ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর বলেন, সোনারগাঁ রেস্তোরা এন্ড সুইটস যা করছে, তা দেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩, ধারা ২৮ অনুযায়ী জেনেশুনে পচা, বাসি, রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করে, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এই অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে আমাদের । অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হবে, আমরা অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা করছি।প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে রোগ ছড়ানোর এই ‘কসাইখানা’ অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। বারবার অপরাধ করার পরও কেন এই সোনারগাঁ রেস্তোরাঁকে চিরতরে সিলগালা করা হচ্ছে না, তা নিয়ে এখন ক্ষোভ দানা বাঁধছে স্থানীয় সচেতন মহলে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান দাবি করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :