ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাশেমের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারির পাওনা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!


News Desk (S) প্রকাশের সময় : জুন ২৪, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ন /
ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাশেমের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারির পাওনা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কর্মচারির গ্র্যাচুইটির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বারবার প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুনীর্তির তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে সুনামধন্য স্কুলের সন্মানক্ষুন্ন হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের ওপর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে জানা যায়, ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও ২০২৫ সালে স্কুলের পিয়ন আজিবার রহমান নিয়মঅনুসারে তারা অবসরে যান। অবসরের দুইবছর অতিবাহিত হলেও নজরুল ইসলামের গ্র্যাচুইটির ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা ও পিয়ন আজিবার রহমানের গ্র্যাচুইটির ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা দিলেও বাকী পাওনা টাকা উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারির। তাছাড়া বিগত ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন নিয়মকানুনের বেড়াজালে আটকিয়ে টাকা দিতে পারবেনা বলে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাছাড়া যে অর্থ এপর্যন্ত তাদেরকে দেওয়া হয়েছে তা অবৈধ ও ফেরত দাবি করছেন প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও রাজনৈতিক পরিচয়ে ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২০২২ সালে। এর আগে সে বাগেরহাট জেলার একটি স্কুল ও পরবর্তীতে বৈকারী-কুশখালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বকালে অনিয়ম ও দূনীর্তির দায়ে চাকরি ছাড়েন। তারপর কয়েকবছর প্রবাসে জীবন কাটানোর পরে দেশে এসে পূর্বের শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যুক্ত হন ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে নানান সময় নানান অনিয়ম-দূনীতি ও চাকরী দেওয়ার নামে চাকরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বাগিয়েছেন প্রায় কোটি কোটি টাকা। সেসব অর্থ নিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ ও গড়েছে আলিসান বাড়ী। এসব বিষয়ে তদন্তে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “অবসরে যাওয়ার পর ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশনের মাধ্যমে গ্র্যাচুইটির অর্থ ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে ১ লক্ষ টাকা দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর বিগত দুইবছর অতিবাহিত হলেও এখন আর বকেয়া টাকা দিবেনা বলে জানিয়েছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় স্কুলের বিভিন্ন খাতের ব্যয় দেখিয়ে এসব টাকা প্রধান শিক্ষক নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।” দুঃখভারাক্রান্ত কন্ঠে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন দরিদ্র আজিবার রহমানও বলেন, আমার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকার মধ্যে প্রধান শিক্ষক ৫০ হাজার টাকা দিলেও বকেয়া ৮৩ হাজার টাকা আর দিবেনা বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে সে খুবই অসুস্থ হয়ে বাড়ীতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, “পূর্বের যেসকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা তাদের গ্র্যাচুইটির টাকাটি পেয়েছেন। সেই অনুযায়ী তারাও এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করি।” প্রধান শিক্ষক এম এ কাশেম বলেন, “বর্তমানে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী তারা কোনো টাকা পাবেনা। যে টাকাগুলো পূর্বে পেয়েছে সেগুলোও অবৈধ। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে সব তথ্য তারা বলেছে সবই মিথ্যা।”

উক্ত স্কুল এ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, “মাত্র ২০দিন হলো দায়িত্ব পেয়েছি। অভিযোগটি শুনেছি এবং সিদ্ধান্তও নিয়েছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের পরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।”

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন মুঠোফোনে জানান, “এইমাত্র আপনার কাছ থেকে শুনলাম এবং ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে কোন অভিযোগ দেননি৷ তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককের সাথে এখনই কথা বলছি। যদি তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”