জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলার অভিযোগ !


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ন /
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলার অভিযোগ !

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের কাথন্দা গ্রামের চৌদালীপাড়ায় জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলচেষ্টা এবং একাধিক মামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কাথন্দা মৌজার ১৫ নং মৌজায় অবস্থিত ৪৪ শতক রেকর্ডভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ওই জমিতে বাঁশের খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। মামলার বাদী মো. আপ্তাব আলী গাজী (মৃত পঞ্চাই আলী গাজীর পুত্র) এবং মো. জাহান আলী গাজী (মৃত মোহাতাব আলীর পুত্র), উভয়ের বাড়ি কাথন্দা গ্রামে। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে আফসার আলী, সুন্দরী বিবি, রূপচাঁদ গাজী, বারেক গাজী ও ইছো বিবিকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উক্ত সম্পত্তি নিয়ে এর আগেও আদালতে মামলা, থানায় অভিযোগ এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে এরপরও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। জাহান আলী গাজী অভিযোগ করে বলেন, “আমি ১৯৮৯ সালে জমি বিক্রি করেছিলাম। পরে ১৯৯১ সালে ২২ শতক জমি পুনরায় কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করি। কিন্তু বিবাদীরা ১৯৮৯ সালের দলিল দেখিয়ে জমির রেকর্ড করেছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রূপচাঁদ গাজীর নেতৃত্বে আমাদের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁরা কোনো আইন-কানুন মানেন না। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।” ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমার পুকুরে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ছিল। পুকুরের পাড় কেটে দেওয়ায় বৃষ্টির পানিতে মাছ ভেসে যায়। পরে বাথরুমের ময়লা পুকুরে ফেলে অবশিষ্ট মাছও নষ্ট করা হয়েছে।” জাহান আলী আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় তাঁদের ব্যবহারের জন্য ছয়টি পানির কল থাকলেও বিবাদীপক্ষ তাঁর ব্যবহৃত পানির সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখলে থাকলেও এসএ ৩২০ ও ১৫৭৮ নম্বর দাগের জমি নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বিবাদীরা প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দা, কুড়াল, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, “বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, আদালতে মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাঁদের ভয়ে আমরা অনেক সময় মুখ খুলতে পারি না। যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।” তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।