সাতক্ষীরায় অ্যাম্বুলেন্স চালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: নগদ টাকা লুট, গাড়ি ভাঙচুর!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরায় অ্যাম্বুলেন্স চালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা: নগদ টাকা লুট, গাড়ি ভাঙচুর!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পলাশ হালদার (৩৫) নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন এল্লারচর বালিথা পাকা রাস্তার মোড়ে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত পলাশ হালদার বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।এই ঘটনায় আহতের স্ত্রী মেহেরুবা খানম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন ​মোঃ আরাফাত (৩০), পিতা- তৌহিদ, সাং- পলাশপোল (নিউ মার্কেটের পিছনে)মোঃ সাদিক (৩০), পিতা- মৃত মুক্ত, সাং- সুলতানপুর,আবু সাইদ (৩৬), পিতা- আজিবার রহমান, সাং- চালতেতলা,অনাদিপ ঘোষাল (২৮), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- সুলতানপুর সাহাপাড়া, মোঃ অনিক (২৫), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- সুলতানপুর সাহাপাড়া,রাজ (২৫), পিতা- প্রেমানন্দ, উভয় সাং- বাঁকাল পাটনীপাড়া।​​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পলাশ হালদার একজন পেশাদার অ্যাম্বুলেন্স চালক। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী ও মৃতদেহ বহন করার কাজ করেন। আসামিদের সাথে পূর্ব থেকে শত্রুতা থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে পলাশকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬:০০ ঘটিকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি মরদেহ নিয়ে আশাশুনি উপজেলার খলিশানী গ্রামে যান পলাশ। সেখানে লাশ নামিয়ে দিয়ে রাত আনুমানিক ০৮:১৫ ঘটিকায় সাতক্ষীরা সদরে ফেরার পথে এল্লারচর বালিথা পাকা রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্র ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সটির গতিরোধ করে।সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক পলাশকে গাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ১নং আসামি মোঃ আরাফাত ধারালো দা দিয়ে পলাশের মাথায় কোপ মেরে মারাত্মক জখম করে (যার কারণে মাথায় ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে)। এরপর ওই আসামিই চাপাতি দিয়ে পলাশের পিঠের ডান পাশে কোপ মেরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে (সেখানে ৪টি সেলাই লেগেছে)। ২নং আসামি মোঃ সাদিক ধারালো চাপাতি দিয়ে পলাশের বাম পায়ের গোড়ালিতে কোপ মেরে হাড়কেটে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া ৪, ৫ ও ৬ নং আসামিরা লোহার রড দিয়ে তার পিঠে  ও ঘাড়ে পিটিয়ে  জখম করে এবং এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ মারেন। নৃশংস হামলার পাশাপাশি ৪নং আসামি অনাদিপ ঘোষাল ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ ১৮,৫০০/- (আঠারো হাজার পাঁচশত) টাকা ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় আসামিরা পলাশের ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি (রেজিস্ট্রেশন নং- সিলেট-ছ-১১-০২১৮) ভাঙচুর করে প্রায় ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।পরবর্তীতে ওই রাস্তা দিয়ে আসা অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মোঃ শাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় সাক্ষীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।এ ঘটনার বিষয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে মামলার বাদী মেহেরুবা খানম জানান, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ। স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছেন এজাহার আমরা আমলে নিয়েছি এবং আসামিদের  বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।