দুর্নীতিবাজ কৃষি অফিসার মোঃ মনির নিজের অপরাধ ডাকতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করেছে!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ন /
দুর্নীতিবাজ কৃষি অফিসার মোঃ মনির নিজের অপরাধ ডাকতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ  করেছে!

​নিজস্ব প্রতিবেদক – সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে আউশ ধানের সরকারি প্রণোদনা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে সার-বীজ বিতরণের ‘নাটক’ সাজানোর পর, এবার নিজের চামড়া বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মূল হোতারা। বিশেষ করে, এই হরিলুটের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনিরের বিরুদ্ধে নিজের দুর্নীতি ও ঘুষের অপরাধ ঢাকতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে জোর তদবির ও দৌড়ঝাঁপের অভিযোগ উঠেছে।​সংবাদ প্রকাশের পর ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এখন হন্যে হয়ে ছায়া খুঁজছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।স্থানীয় সূত্র ও কৃষি অফিসের ভেতরের খবর অনুযায়ী, গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবরটি চাউর হওয়ার পর থেকেই উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনির চরম বেকায়দায় পড়েছেন। নিজের চেয়ার ঠেকানো এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মচারী জানান”স্যার (মোঃ মনির) গত দুইদিন ধরে অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্মে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ফাইলপত্র গোছানোর চেয়ে বিভিন্ন মহলে ফোন করা এবং তদবির করতেই তার বেশি সময় কাটছে। যেকোনো মূল্যে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে যোগসাজশে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা বাদ দিয়ে ভুয়া তালিকা তৈরি করার পেছনে মূল সবুজ সংকেত ছিল এই কৃষি অফিসারের। প্রতিটি প্রণোদনার ফাইল ছাড়ানো এবং সার-বীজ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য বা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যখনই গণমাধ্যমে এই থলের বিড়াল হাটে ভেঙে পড়ে, তখনই তিনি তড়িঘড়ি করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে রাতের আঁধারে ‘লোকদেখানো’ সার-বীজ বিতরণের নাটক সাজান, যা মূলত তার নির্দেশেই হয়েছিল বলে জানা গেছে।এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসারের এমন মরিয়া দৌড়ঝাঁপের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝাউডাঙ্গা, তুজলপুর ও বিহারীনগর এলাকার সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।দিনের আলোয় অফিস টাইমে বিতরণ না করে গভীর রাতে কেন সার-বীজ দেওয়া হলো, তাতেই প্রমাণিত হয় কৃষি অফিসার নিজে এই দুর্নীতির সাথে জড়িত।লোকদেখানো নাটক বা ওপর মহলের তদবিরে যেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা পার পেয়ে না যান।সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রণোদনা যারা গিলে খাচ্ছেন, তাদের অতি দ্রুত ওএসডি (OSD) করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে।এইসব অভিযোগ, ঘুষের বিষয় এবং বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপের ব্যাপারে জানতে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মনিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি অফিসে গিয়েও তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষকরা এখন তাকিয়ে আছেন জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে। কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের মূল হোতা কৃষি অফিসার মোঃ মনির সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।