
নিজস্ব প্রতিবেদক : রং বদলের পালায় সাতক্ষীরায় আলোচিত নাম আওয়ামী লীগের নেত্রী চৈতালী মুখার্জী। কখনো আওয়ামী লীগ কখনো বিএনপি সেজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।গত শনিবার রাতে সাতক্ষীরায় আইনমন্ত্রীর নৈশভোজে আওয়ামী লীগের নেত্রী চৈতালী মুখার্জীর উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভেতরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভেতরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাতক্ষীরা আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নির্মূলে দায়িত্ব পেয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. আসাদুজ্জামান। তিনি শনিবার রাতে সাতক্ষীরায় মতবিনিময় সভা উপলক্ষে সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। আইনমন্ত্রীর নৈশভোজে হঠাৎ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী চৈতালী মুখার্জী উপস্থিত হন। চৈতালী মুখার্জীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতারা। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রীর সাথে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ নেত্রী চৈতালী মুখার্জী।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চৈতালী মুখার্জী পেশায় একজন সংগীতশিল্পী। তার ভাই সুমন মুখার্জী আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে চৈতালী মুখার্জী সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ক্রয় করেন চৈতালী মুখার্জী। চৈতালী মুখার্জী ও তার ভাই সুমন মুখার্জী সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে জেলাজুড়ে দাপট দেখিয়ে বেড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের সময়ে সকল সুবিধা ভোগ করা চৈতালী মুখার্জী রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি নেত্রী হওয়ার জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।চৈতালী মুখার্জীর হঠাৎ আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি সাজায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মাসুম বিল্লাহ শাহিন বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রী হঠাৎ করে এখন বিএনপি নেত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই বিশেষ মহলের তদবিরে গতকাল আইনমন্ত্রীর সাথে দেখা করে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন। যারা বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করছে তারা চৈতালী মুখার্জীর মতো আওয়ামী লীগের নেত্রীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। চৈতালী মুখার্জীদের বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে এক শ্রেণি। এদের হাত ধরে বিএনপিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ড বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, চৈতালী মুখার্জী আওয়ামী লীগের সময়ে মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে চলেছেন। নারায়ণ চন্দ্রকে দিয়ে বিভিন্ন নেতাদের ফোন করিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তার তদবিরে আমরা কোণঠাসা ছিলাম। কিন্তু এখন হঠাৎ চৈতালী মুখার্জীকে দেখছি বিএনপির মন্ত্রীর নৈশভোজে অংশগ্রহণ করতে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে যারা দাপিয়ে বেড়িয়েছে, বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে তারা এখন বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই চৈতালী মুখার্জীর কারণে অনেক পরিশ্রমী নেত্রীরা দলে জায়গা পেতেন না, যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে দল বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তার ভাই সুমন মুখার্জী আর চৈতালী মিলে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে। এখন ফেসবুকে দেখছি বিএনপির মন্ত্রীর সাথে নৈশভোজে।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ক্রয়কারী চৈতালী মুখার্জীকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :