পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে সান্টু ও গাছ কালাম!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ন /
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরছে সান্টু ও গাছ কালাম!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সরকারি সম্পদ লুটেও প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ধড়িবাজ’ দুই আসামি। ১২টি সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করার পর এবার প্রকাশ্যেই প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে সান্টু ও কুখ্যাত ‘গাছ কালাম’ নামের দুই অভিযুক্ত। মামলা হলেও অদৃশ্য কোনো খুঁটির জোরে এখনো বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোতেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারি ১২টি মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করে এই চক্রটি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেফতার হয়নি তারা। উল্টো এলাকায় প্রকাশ্য দম্ভোক্তি করে বেড়াচ্ছে এই দুই আসামি। তাদের হুংকার পুলিশ প্রশাসন আমাদের কী করবে? ওসব মামলা,হামলা দিয়ে আমাদের কিচ্ছু করা যাবে না।সরকারি সম্পদ চুরির পর আসামিদের এমন প্রকাশ্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জে ক্ষুব্ধ সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আইন কি তবে এই চোরদের সামনে সত্যিই অসহায়, নাকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের-১ নীরবতাই তাদের এই দম্ভের মূল জ্বালানি? দ্রুত এই দুই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরকারি সম্পত্তি যেন মগের মুল্লুক! কোনো টেন্ডার নেই, নেই কোনো নিলামের বালাই। রাতের আঁধারে সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করে লাখ লাখ টাকা পকেটে পুরেছে একদল প্রভাবশালী লুটেরা। আর এই পুরো হরিলুটের নেতৃত্ব দিয়েছেন সান্টু ও কালাম নামের দুই ব্যক্তি।সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুখরালী প্রাইমারি স্কুলের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-১)এর জায়গায় থাকা ১১টি বিশাল মেহগনি এবং একটি মূল্যবান পাপড়া গাছ কেটে সাবাড় করেছে এই চক্রটি। গত রবি ও সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে এই চুরির ঘটনা। আনুমানিক ৭ লাখ টাকা মূল্যের এই গাছগুলো কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে সান্টু ও কালামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোয় সরকারি গাছ কাটার সাহস না পেলেও রাতের অন্ধকারকে বেছে নেয় এই চক্র। কুখরালী প্রাইমারি স্কুলের সামনের রাস্তা সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে বছরের পর বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ১১টি মেহগনি ও একটি পাপড়া গাছের ওপর নজর পড়ে সান্টু ও কালামের। গত রবি ও সোমবার রাতে যখন পুরো শহর ঘুমে মগ্ন, তখন মেতে ওঠে এই গাছ চোর চক্র। বিশাল আকৃতির ১২টি গাছ কেটে রাতারাতি তা সরিয়ে ফেলা হয়।নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, কেটে ফেলা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোনো সরকারি কোষাগারে যায়নি, গেছে সান্টু, কালাম এবং তাদের পেছনের গডফাদারদের পকেটে।সরকারি জায়গায় থাকা গাছ এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পাচার হয়ে যাওয়ার পরও অদ্ভুত নীরবতা পালন করেছিলো  পানি উন্নয়ন বোর্ড,গণমাধ্যমের চাপে পড়ে পরবর্তীতে থানায় মামলা দায়ের করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডে।প্রশ্ন উঠেছে, ৭ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ যখন রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায়, তখন কি সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে ছিল? পাউবোর কোনো অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এমন দুঃসাহসিক চুরি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছে।কুখরালী এলাকার বাসিন্দারা জানান, মেহগনি ও পাপড়া গাছগুলো এই এলাকার পরিবেশ রক্ষা করত। স্কুলের সামনে গাছগুলো থাকায় পরিবেশটাও সুন্দর ছিল। কিন্তু সান্টু ও কালামের লোভের বলি হলো সরকারি এই সম্পদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি গাছ যেন বাপের সম্পত্তি! রাতে এসে কেটে নিয়ে গেল, আর সবাই ঘুমাচ্ছে। এদের কি বিচার হবে না?একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জায়গায় ঘটে যাওয়া এই মেগা-চুরির ঘটনায় সান্টু ও কালাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আরো কঠিন থেকে কঠিন  আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই গাছ চোরদের ডেরায় হানা দেয়, নাকি বরাবরের মতোই ফাইল চাপা পড়ে থাকে।এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সান্টু ও কাঠ কালামের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন গাছ কেটেছি তাই কি হয়েছে,আমাদের ক্ষমতা আছে সরকাররি টেন্ডার লাগে না।গাছ ভবিষ্যতে আরো কাটবো।