সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ন /
সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে লাইফ কেয়ার হাসপাতাল
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ও প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল। জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাউখালীতে গড়ে ওঠা এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সংবাদ প্রকাশের পরে সাময়িক হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হলেও সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে অপরিচ্ছন্ন, নবায়নবিহীন ও মানুষ মারার কারখানা নামে পরিচিত ক্লিনিকটি।
সূত্র জানায়, লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের মালিক শেখ জাহাঙ্গির আলম জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারি হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। অনেক অনিয়ম থাকলেও তিনি সেটাকে নিয়মে পরিণত করতে সক্ষম।
নামধারি এই ক্লিনিকে বিভিন্ন সময় ভূল চিকিৎসায় রোগীরা পঙ্গুত্বসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নেই পরিচ্ছন্নতার বালাই, নাই ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, ক্লিনিকের নিয়ম অনুয়ায়ী ডাক্তার ও নার্স। অদক্ষ কিছু কর্মচারিদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
ক্লিনিক পরিচালনাকারী জাহাঙ্গীর হোসেন কাউকে পরওয়া করেননা। মানুষ মারার কারখানা হিসাবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম পরিচালিত লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল কালিগঞ্জবাসির গলারকাটায় পরিণত হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওলজী) মো: জাহাঙ্গীর আলম চাকরির অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। জাহাঙ্গীর আলম ২০০৬ সালে  শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ চাকরি জীবন শুরু করেন। ২০১১ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত খুলনায় শেখ আবু নাসের চাকরি করেন। আবু নাসের হাসপাতালে চাকরি জীবনে অনিয়ম দুর্নীতির  যাত্রা শুরু করেছে। তারপর থেকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনিয়মের ১ বছর পূর্ণ না হতে বদলি করা হয় খুলনা ডুমুরিয়া হাসপাতালে। সেখানে অল্পকিছুদিন থেকে টিবি হাসপাতালে বদলি হয়। তদবির করে বদলি হন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে।
২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল দীর্ঘ ৮ বছরে জাহাঙ্গীর গড়ে তোলেন সদর হাসাপাতালের অনিয়মের সাম্রাজ্য।  বিভিন্ন পরীক্ষার টাকা আত্মসাৎ করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ল্যাব সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করত জাহাঙ্গীর। ২০২১ সালে কৌশলে বদলি হন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জাহাঙ্গীর আলম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলির সময়কালে মেডিকেল কলেজ ছিল দুর্নীতির আখড়া।
সেইসময়  পরীক্ষা নিরীক্ষা এক তৃতীয়াংশ টাকা জমা হত না সরকারি কোষাগারে। মেডিকেল হাসপাতালের আয়ের অধিকাংশ টাকা পর্যায়ক্রমে ভাগ হতো। ল্যাব সেক্টরে দায়িত্বে ছিল জাহাঙ্গীর। নামমাত্র কিছু টাকা বাৎসরিক সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন।
এসকল অনিয়মের অন্যতম সহযোগী ছিল মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট জাহাঙ্গীর। সে বর্তমানে পুরাতন সাতক্ষীরা ৫৭ প্লটে জমি কিনে কোটি টাকার বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণ করছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিজ নামে পরিবারের নামে মূল্যবান জমি ক্রয় করেছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্্ররে ও সিটি স্ক্যান বিভাগের সরকারি রাজস্ব (টাকা) আত্নস্বাত ও নিজের মালিকানাধীন লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পাহাড়সম অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে আইনের কোন তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরা পৌরসভা এলাকায় অনুমোদন বিহীন রাজকীয় বহুতল ভবন গড়ে তুলেছেন। যেন দেখার কেই নেই।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওলজী) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার জায়গা (স্বাস্থ্য বিভাগ) ঠিক থাকলে দু’একটা পত্রিকায় লিখে আমার কিছু হবে না।
এদিকে, সাতক্ষীরার সচেতন মহল জাহাঙ্গীরের অনিয়ম ও দূর্ণীতি ও তার আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালামের  বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দুদকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।