
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক :
সরকারি নির্দেশনা ও শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার বইমেলা লাইব্রেরিসহ জেলার বিভিন্ন লাইব্রেরিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ নোট গাইড। ‘সহায়ক গাইড’ এর মোড়কে বাজারজাত করা হলেও বাস্তবে এগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নোট গাইড—যা শিক্ষার মৌলিক নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
অভিযোগ উঠেছে, লেকচার, পাঞ্জেরী,ক্যাপ্টেন সহ কমপক্ষে দশটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নোট গাইড শিক্ষক-নেতাদের মাধ্যমে স্কুলভিত্তিক যোগাযোগ (স্কুল কন্টাক্ট) করে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষায় ভালো ফলের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট নোট গাইড কেনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লেকচার কোম্পানির হয়ে মাঠে নেমেছেন সাতক্ষীরা বইমেলা লাইব্রেরির সত্তাধিকারী জাহাঙ্গীর। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক-নেতাদের মাধ্যমে নোট গাইড বিক্রি নিশ্চিত করতে তিনি লেকচার কোম্পানি থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তা সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষক নেতাদের মধ্যে বণ্টনের দায়িত্ব নিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নামেও বন্টন হচ্ছে টাকা।
সূত্রগুলো দাবি করছে, শিক্ষকরা সেই অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বোঝান—“এই নোট গাইড না কিনলে পরীক্ষায় ভালো করা যাবে না।”
জেলা শিক্ষা অফিসারের রহস্যজনক নীরবতা এতসব অভিযোগ ও প্রকাশ্য অবৈধ বিক্রি চললেও সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসারের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুরো বিষয়টি জেনেও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের ভাষ্য আরও ভয়াবহ।
“লেকচার গাইড কোম্পানি জেলা শিক্ষা অফিসারের পকেট ভরিয়ে দিয়েছে বলেই তিনি সরকারি আদেশ তোয়াক্কা করছেন না।
সরকারি আদেশ অমান্য, শিক্ষাব্যবস্থা হুমকিতে।
উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নোট গাইড ব্যবহার ও বিক্রয় দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিকবার এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করলেও সাতক্ষীরায় তার বাস্তব প্রতিফলন নেই বললেই চলে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই নোট গাইড সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা নষ্ট করছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করছে। তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি,এ বিষয়ে অবিলম্বে—অবৈধ নোট গাইড বিক্রির সঙ্গে জড়িত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান,সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি মালিক,শিক্ষক-নেতা,এবং জেলা শিক্ষাঅফিসারের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাতক্ষীরায় শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।
এ ব্যাপারে লাইব্রেরীর মালিক জাহাঙ্গীর নোট গাইড বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, নোট গাইড এখন বন্ধ সহায়ক গাইড বিক্রি হয়। নোট গাইড আর সহায়ক গাইড এর মধ্যে পার্থক্য কি এমন প্রশ্ন করলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
আপনার মতামত লিখুন :