
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক :সাতক্ষীরায় এক সময়ের ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন ‘বেস্ট টিম’-এর কথিত অ্যাডমিন মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় দায়েরকৃত মামলার নথি ও আদালতের আদেশে পরিচালিত ডোপ টেস্টে তার মাদকাসক্তি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্তমানে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অবাধে চলাফেরা করছেন। যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য মাহফুজা সুলতানা রুবি বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি (মামলা নং-১) দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় আদালতের নির্দেশে ডোপ টেস্ট করানো হলে তার শরীরে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া যায়, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে উক্ত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেন। এ সংক্রান্ত ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে ৩১ আগস্ট সদর থানায় মামলা নং-৭৮ দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোস্তাফিজ ও তার সহযোগীরা ঘরের তালা ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, জমির বন্দকি দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, যা দণ্ডবিধির ৩৯৫/৪৪৭/৪২৭ ধারাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে।মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় জনগণ পরানদহা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে মাদক সেবন সংক্রান্ত ভিডিও ও অভিযোগসমূহ ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পুনরায় পরিচালিত ডোপ টেস্টেও তার মাদকাসক্তি প্রমাণিত হয়।সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বর্তমানে মোস্তাফিজ নিজেকে “সাংবাদিক” পরিচয়ে উপস্থাপন করে সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন—যা প্রতারণা, ছদ্মবেশ ধারণ ও চাঁদাবাজির অপরাধের শামিল। স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকরা দাবি করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজ কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত নন, তার সংবাদ লেখার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই, এবং তিনি মূলত ফেসবুকভিত্তিক ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করেন।সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেন,এ ধরনের ভুয়া ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়ালে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হয় এবং পুরো পেশাটি জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও নাগরিক সমাজ মনে করেন, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট প্রদান ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে সংঘটিত অপরাধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আপনার মতামত লিখুন :