
শহর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর পোস্ট অফিস এখন অনিয়ম, দুর্নীতি আর আতঙ্কের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আর এই দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অফিসের কুখ্যাত ‘ট্যাকার’ নারায়ণ চন্দ্র দাস। গ্রাহক হয়রানি, জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে খোদ অফিস চত্বরেই মাদক সেবনের মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে এই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর চালাচ্ছেন জুলুম ও নির্যাতন।নারায়ণ চন্দ্র দাসের অপকর্মের ফিরিস্তি দীর্ঘ। অভিযোগ রয়েছে, ডাকযোগে আসা খাম কৌশলে খুলে আঠা ছাড়িয়ে ভেতরে থাকা টাকা চুরি করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০০৫ সালের একটি পুরনো সঞ্জয়পত্র পাশ বই (নং-৭৭১২০) গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দিয়ে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই দুর্ধর্ষ প্রতারক। সঞ্চয়পত্র খুলে দেওয়া বা দ্রুত টাকা তুলে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ তার ওপেন সিক্রেট।সরকারি কর্মচারী হয়েও আইন-শৃঙ্খলার কোনো তোয়াক্কা করেন না এই নারায়ণ প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অফিস কম্পাউন্ডের ভেতরেই তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে নিয়মিত গাঁজা সেবন করেন। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করা তার প্রাত্যহিক ঘটনা। সাধারণ মানুষ তার কাছে সেবা চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।একজন সামান্য ট্যাকার হয়েও নারায়ণ চন্দ্র দাস এখন বিপুল সম্পদের মালিক। অবৈধ আয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজের বাড়ির পাশে পুকুর লিজ নিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, এমন আরও তিনটি পুকুর বর্তমানে তার দখলে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রভাব এবং অবৈধ অর্থের গরমে তিনি এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না।এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে নারায়ণ চন্দ্র দাস তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অভিযোগের কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে তিনি প্রতিবেদকের সাথে চরম ধৃষ্টতা দেখান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন। তিনি যেন আইনের ঊর্ধ্বে—এমন এক মানসিকতা নিয়ে বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সরকারি এই দপ্তরে।সাতক্ষীরা সদর পোস্ট অফিসের এই ‘বিষফোঁড়া’ উপড়ে ফেলতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের আমানত রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। একজন চিহ্নিত অপরাধী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি কীভাবে এখনো সরকারি চেয়ারে বহাল তবিয়তে থাকে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :