খুলনা বিভাগের স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের শীর্ষে ‘গোল্ড   টুটুল : স্বর্ণ পাচারে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা  সক্রিয়!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন /
খুলনা বিভাগের স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের শীর্ষে ‘গোল্ড    টুটুল : স্বর্ণ পাচারে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা  সক্রিয়!

বিশেষ  প্রতিনিধি: খুলনা বিভাগের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভোল পাল্টানো লেবাসধারী সৈয়দ রেজাউল ইসলাম টুটুল, যিনি স্থানীয়ভাবে সুদখোর ‘গোল্ড টুটুল’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জেলায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার, অপহরণ ও নির্যাতন ও সুদ ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের  নেতা গোল্ড টুটুল। এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের অধিকাংশরা তার পরিবার ও নিকট আত্মীয়-স্বজন। এমনকি গোল্ড পাচারে তার শশুর  বাড়ীর আত্মীয়রাও সক্রিয়। গোল্ড পাচারে গোল্ড টুটুলের স্ত্রী, ছেলে, ভাই, ভাবী,  শালা, শালীর ছেলেসহ স্বর্ণ পাচারের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। এমনকি মটর সাইকেল শো’রুমের কর্মচারী সাইফুলও গোল্ড টুটুলের স্বর্ণ নিয়মিত পাচার করে থাকে। এমনকি ২০২৩ সালে গোল্ড টুটুলের স্বর্ণ পাচারের সময় একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পরে  ও মামলাও হয়। ওই সময় গোল্ড টুটুলের বড় ছেলে শিহাবের নামে সোনা পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে মামলা হয়। ওই মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে ও স্বর্ণ নির্বিঘ্নে  পাচার করতে গোল্ড টুটুল ২০২৩ সালের ৫ আগষ্ট ঢাকা সাভারের গোল্ড মাষ্টার আকাশ দাসকে সাথে নিয়ে বরখাস্তকৃত তৎকালীন পুলিশ সুপার কাজি মনিরুজ্জামানের সাথে দেখা করেন ও মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেন। যা ৬ আগষ্ট স্থানীয় একটি পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গোল্ড টুটুল নিজস্ব একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী তৈরি করতে ইত্যাদি মটরস নামে একটি মটর সাইকেল শো’রুম করেছেন। শো’রুমের কর্মচারী ও কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে শো’রুমের নামে সুদের ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এই বাহিনীর সদস্যরা তার নির্দেশে অপহরণ, নির্যাতন ও সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে বলে দাবি স্থানীয়দের।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টুটুলের নেতৃত্বে তার বাহিনী জোরপূর্বক জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সুদের টাকা আদায় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি এই সুচতুর গোল্ড টুটুল এক সময় সাতক্ষীরা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক থেকেও বর্তমানে বিএনপি’র একটি সহযোগী সংগঠনে যোগ দেওয়ার চাউর আছে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টুটুলের প্রভাবের কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নিয়মিত টহল দেয় এবং বিরোধী পক্ষকে দমন করতে সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে সব সময়। তবে, গোল্ড টুটুলের কেজি কেজি স্বর্ণ একাধিকবার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করলেও ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে গেছে সে। গোল্ড টুটুলের স্বর্ণ একের পর এক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলে সন্দেহমূলক ভাবে ৩ জন ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে অপহরণ ও ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। গোল্ড টুটুলের ধারণা এই ব্যক্তিদের কারণে তার স্বর্ণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করছে। এজন্য আমাদের অপরহরণ ও নির্যাতনে করে। গোল্ড টুটুলের সেই নির্মম নির্যাতনের আঘাত নিয়ে এখনও ধুকে ধুকে বেড়াচ্ছেন ইসমাইল, আলমগীর ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বাবু। নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানায়, ২০২৩ সালের ৯ জুন এশার নামাজের পর বাড়ি থেকে কৌশলে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর ইসমাইলকে পৌর এলাকার কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকায় টুটুলের বাড়ির দ্বিতীয় তলা আটক করে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় আলমগীর বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছেন।ভয়াবহ এই অভিযোগের বিষয়ে টুটুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বর্তমান সাতক্ষীরা কে বলেন আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের  সভাপতি দায়িত্ব পালন করছে এজন্য  কিছু কুচক্রী মহল আমার নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এগুলো সব মিথ্যা। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, টুটুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান।বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান চক্র দমনে কঠোর নজরদারি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্ন  হতে পারে।সাতক্ষীরার সচেতন মহল দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও গোল্ড টুটুলকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।